If you are an avid Reader, Click Here to Sign in. Create bookmarks, post comments, engage in discussion with authors and other readers, increase your knowledge, proficiency in language, earn points and compare and share with others.

“মৃত্যুতেই কি জীবনের শেষ?” লাইনটা লিখেই পেনটা ডায়েরির উপর খানিকটা অযত্নেই শুইয়ে দিলাম। ঘড়ির দিকে চোখ ফেরাতেই দেখি রাত ২টো। না, আজ আর না, বাকি গল্পটা কাল লিখবো। এইবার বাইরের ঝিঁঝি পোকার ডাক এড়িয়ে ঘুমোনোর পালা। টেবিলল্যাম্পের আলোটা নিভিয়ে স্বভঙ্গিতে বিছানার কাছে আত্মসমর্পণ করলাম। ধুসস্! কি হলো হটাৎ আজ? ঘুম আসছেনা কেন? এপাশ ওপাশ পাল্টি খেয়েও রক্ষে নেই। ঘুম আজ বেপাত্তা। ঠিক করলাম চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকবো, তাহলে যদি ঘুম বাবাজির আমার চোখের ঠিকানা মনে পড়ে। যেমনি ভাবা তেমনি কাজ। ঘুমোনোর চেষ্টার মাঝে কিছু একটা অস্বস্তিতে চোখটা খুলে গেল। দেখলাম টেবিলল্যাম্পটা জ্বলে আছে। আর তার থেকে আরো বড় খটকা লাগলো যখন চোখ পড়ল ল্যাম্পের আলায় মেখেথাকা ডায়েরির পাতায়। আমি ভুরু কুঁচকে একবার ভেবেনিলাম, না আমি তো ঘুমোনোর আগে ডায়েরিটা বন্ধ করে রেখে এসেছিলাম, এমনকি আমার প্রিয় ফাউন্টেন পেনটাকেও ওই ডায়েরির ভাঁজে শ্বাসরুদ্ধ করে এসেছিলাম। তাহলে কি……? ধুর্! ইতিহাস সাক্ষি আছে লেখকদের স্মৃতিশক্তি একটু নড়বড়েই হয়। তার চেয়ে বরং ব্যাপারটা এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, আর সে আমি অনেকটাই বুদ্ধিমান। কিন্তু সমস্যাটা হলো সেদিন রাতের ঘটনাটা যত সহজে এড়িয়ে গিয়েছিলাম, পরের দিনের ঘটনাগুলো অতো সহজে এড়াতে পারিনি। কখনো দরজার নিজে নিজে খুলে যাওয়া, সাজানো বইয়ের তাকের বইগুলোর এলোমেলো হয়ে যাওয়া, আবার কখনও ডায়েরির পাতায় অচেনা আঁকিবুকি আমার রাতগুলোকে অগুনতি সিগারেট-এর ধোঁয়ায় বিলীন করেছে। আজ মনে মনে ঠিক করেছি আমাকে জানতেই হবে এইসবের মনে কি? কেউ কি কিছু বলতে চায় আমায়? তখন রাত্রি দেড়টা, শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথ আর আঁকড়ে রাখতে পারলোনা আমায়, ঢুলু ঢুলু চোখের গন্তব্য এখন একটাই, ওই বিছানা। কিন্তু ভাবলাম সেই সৌভাগ্য তো আমার রাতের অদৃশ্য অথিতি কেড়ে নিয়েছেন। তাই বইটা টেবিলের উপর রেখে দিয়ে চেয়ারে পিঠটা হেলিয়ে দিয়ে তার অপেক্ষায় বসে রইলাম। “Life’s but a walking shadow, a poor player, that struts and frets his hourupon the stage, and then is heard no more.” কখন চোখ লেগে গিয়েছিল খেয়াল ই করতে পারিনি, কিন্তু মাকবেথের লাইনগুলো কানে আসতেই ঘুমটা কেটে গেল। চোখ কচলাতে কচলাতে দেখি সারা ঘরে আমি একাই, কেউ নেই। আমি কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞাসা করলাম - “কে? কে ওখানে?” যেন অন্ধকার থেকে ই উত্তরটা ভেসে এলো, “শেক্সপিয়র” “মানে?” “না না আমি নই, লাইনগুলোর স্রষ্টা।” “সে…..সেটা, সেটা তো বুঝলাম, কিন্তু তুমি কে?” একটা মিহি হাসি কানে ভেসে এলো, ধীরে ধীরে হাসির শব্দটা কাছে আসতে শুরু করলো। একটা আলোআঁধারী ছায়ামূর্তি ঘরের কোণা থেকে আমার দিকে এগিয়ে এলো। ক্রমশ চোখে পড়লো ছায়ামূর্তি না সেটা একটা রক্তমাংসের শরীর। পরনে একটা কালো জামা আর jeans, বয়স ওই আমার ধারেকাছে ই। তাকে পর্যবেক্ষণ করতে করতে ইতিমধ্যে সে আমার সম্মুখীনে উপস্থিত। আমি একটা অপরিণত ঢোক গিলে বললাম- “কে তুমি? আমায়, আ...মায় কি দরকার?” “নাম জেনে কি হবে? ধরে নাও আগন্তুক। আর দরকার বলতে, সাহায্য চাই । করবে আমায় সাহায্য?” এতদিন যা যা ঘটেছে আমার সাথে আমি অনেকটাই অভ‍্যস্থ হয়ে গেছি এইসবের সাথে, তাই ভয়টা একটু এড়িয়েই বললাম, “আমি ? আমি কি সাহায্য করবো তোমার?” “আমায় আমার ভালোবাসা খুঁজে দেবে? একবার দেখতে চাই শুধু তাকে।” “মানে?” চোখের চাহুনি অন্যদিকে করে বুড়ো আঙুল দিয়ে তর্জনীর নখটা ঘষতে ঘষতে বলতে শুরু করলো সে, “খুব ভালোবাসতাম তাকে আমি, তার চোখে কিছু একটা গল্প লুকিয়ে থাকতো, ঠোঁটে থাকতো নাবলা কথার ভিড়, কালো ঘন চুলে হারিয়েছিল আমার রাতগুলো। প্রথমবার দেখেই ভালোবেসে ফেলেছিলাম তাকে। কিন্তু বলতে পারিনি।” কথাগুলো বলতে বলতে তার চাহুনি আমার দিকে ফিরে এলো, আকস্মিক চোখাচোখিতে তার প্রেমিকচেতনা কিছুটা খর্ব হলো, ঠোঁটের কোণে হালকা হাসিটা ঝুলিয়ে দিয়ে বললো, “খুঁজে দেবে আমায়, আমার ভালোবাসা?” আমি চোখের পলকটা একবার ফেলে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম। “তবে তুমি কিভাবে এরকম…………” কথা শেষ করার আগে ই সে কথা কেড়ে নিয়ে বললো, “একটা ভুল, একটা accident, আর বাকিটা, সময় এলে জেনে যাবে ঠিক।” আমি কৌতুহলটা নেহাত চেপে রেখে মাথাটা অল্প নেড়ে বললাম, “ হমম! কিন্তু নাম কি তার?” “ অনিন্দিতা…..” অটো থেকে নেমে ড্রাইভার কে দুজনের টাকা দিতে, সে যখন একজনের ভাড়াটা ফেরৎ দিলো তখন আমার বোধগম্য হলো যে এই আগন্তুক প্রেমিক কেবল আমাকেই দর্শন দিয়েছেন। দোতলা পুরোনো আমলের বাড়ি,দেওয়ালের চুন খসে মাঝে মাঝে রক্তিমবর্ণের ইঁটগুলো উঁকি মারছে। কলিং বেলের অবস্থা দেখে শর্ট খাওয়ার যে ভয়টা মাথাচাড়া দিয়েছিল মনে মনে সেটা খানিকটা এড়িয়েই স্পর্শ করলাম সেটা। কোনোরকম উত্তর না পেয়ে একটু থেমে আবারও বাজালাম কলিং বেলটা, এবার ভেতর থেকে একটা মেয়েলি কণ্ঠ ভেসে এলো, “আসছি।” আমি আগন্তুকের দিকে তাকালাম, এপ্রিল এর সূর্যের রাগের মাঝেও তার লালচে মুখের উত্তেজনার সেই হাসিটা ঠিক চোখে পড়লো আমার। আমি দরজার দিকে চোখ ফেরানোর আগেই দরজাটা খুলে গেলো। মহিলাটি যেন কিছু একটা জিজ্ঞাসা করতে করতে আটকে গেলেন, তারপর কিছুক্ষনের নিস্তব্ধতা। তারপরে যা ঘটলো তার বিন্দুমাত্র বিশ্লেষণ ছিলোনা আমার কাছে। হঠাৎই মহিলাটি অবাধে আমায় জড়িয়ে ধরলেন, এক পাগলপ্রেম ছিল তার সেই আলিঙ্গনে। আমি কিছু বোঝার আগেই কানে ভেসে এলো কিছু অস্পষ্ট ফিসফিস, “অচেনা গল্পটা খুঁজে নিও ডায়েরির মাঝে লেখক বন্ধু।” যখন পাশ ফিরে দেখলাম কেউ নেই। “অগ্নি , অগ্নি, আমায় শুনতে পারছিস?” অগ্নি হালকা ঘোর কাটাতে কাটাতে জড়ানো কণ্ঠে উত্তর দিলো, “আমি পেরেছি, আ…….আমি পেরেছি অঞ্জন ।” অঞ্জন এবার চোখে জলের ছিটে মারলো। অগ্নির ঘোরটা এবার কেটেছে পুরোপুরি ভাবে। অঞ্জন- “এবার বল কেন এতো তোড়জোড়? গল্পটা কি?” “অনিন্দিতা, সেই প্রথমবার বইমেলাতে পরিচয়, ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, হয়তো ভালোবাসা, কিন্তু একতরফা।” “তারপর?” “সেদিন বলতে গিয়েছিলাম তাকে সবকিছু, কিন্তু বলার আগেই জানলাম সে আমার নয়, ভালোবাসতো খুব এক লেখক কে, অভিরূপ। মেনে নিতে পারিনি সেদিন, সারারাত কষ্ট পেতে থাকি, রাগে কষ্টে হিংস্র হয়ে ওঠে মনটা, অনেকটা স্বার্থপর হয়ে যাই।” “স্বার্থপর, কেন?” “সেদিন অভিরূপ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল কোনো কাজ-এ, দিলাম একটা ধাক্কা, রক্তাত্ত অভিরূপের শরীরটা ফুটপাতের উপর আছড়ে পড়লো” একটু নিস্তব্ধতা, অঞ্জন এবার অগ্নির হাতের উপর হাতটা রেখে বললো, “আর অনিন্দিতা?” “পাগল ছিল ওর ভালোবাসায়, যাকে কোনোদিন বলতেই পারেনি ভালোবাসার কথা, তার জন্য সুইসাইড করলো…..।” অগ্নির চোখের কোণে জল দেখতে পেল অঞ্জন। “যাক, অতীত তো। ভুলে যা। তোর ভুলের শাস্তি তুই পেয়েছিস। আর একরকম প্রায়শ্চিত্ত ও করে এলি মৃত্যুর পর ও একটা ভালোবাসার গল্প কে বাঁচিয়ে রেখে” অগ্নি চোখের কোণের জলটা লুকোনোর ভঙ্গিতে মুছে বললো, “ ধন্যবাদ Paranormal Artist অঞ্জন রানা। তোর জন্য ই তো ওই দুনিয়ায় যেতে পারলাম” “সে ধন্যবাদটা বিশুদার চা দোকানে চা তে বেশ আমেজি চুমুক দিতে দিতে দিলে ও তেমন একটা খারাপ হবেনা বোধ হয়।” “ঠিক বলেছিস” উঠতে উঠতে অঞ্জন জিজ্ঞাসা করলো, “তাহলে অগ্নি, মৃত্যুতে কি জীবনের শেষ?” “জীবনের শেষ কিনা জানিনা, কিন্তু মৃত্যুতে ভালোবাসার শেষ হয়না ।” “তাই ? কে বললো?” অগ্নি আবারও নিষ্পাপ একটা হাসি দিয়ে বললো, “অনিন্দিতা”............




Author

Antarik Sasmal
Last Online: Tuesday 07/08/18 | Published on: Saturday 04/08/18

Antarik Sasmal is the author of this content.

Share this page and spread the word!

Liked the Article? Review it here:

1       2       3       4       5      

Reader Reviews and Feedback:

1. Anonymous (Rated 4/5) : "Kiol"





Size:      || Mode:               || PlayStyle:            || Play: