If you are an avid Reader, Click Here to Sign in. Create bookmarks, post comments, engage in discussion with authors and other readers, increase your knowledge, proficiency in language, earn points and compare and share with others.

গ্যালিফ স্ট্রিট থেকে রথতলা। বড়জোর ৪০ মিনিট। তবু এটুকু সময়েই প্রায় দম বন্ধ হয়ে আসছিল গোল্ডি, মলি, এইঞ্জলদের। কারণ দোকানদার প্লাস্টিকের একটা ছোট্ট প্যাকেটে সামান্য জল দিয়ে তাদের ভরে দিয়েছিল। প্যাকেটের মুখটা গাডার দিয়ে বাঁধা। তাই ফ্রেশ অক্সিজেনের অভাবে ওরা হাঁপিয়ে উঠছিল। লোকে ওদের মাছ বলে। কিন্তু আমরা বলি পরিবার। অতিথি। ঠিক মানুষের মতো। পৃথিবীতে আমরাও আসি কিছু বছরের জন্য। পরিবারে। অতিথি হয়ে। তারপর একদিন মরে যাই। গোল্ডি, মলিরা অবশ্য মানুষের মতো অত বেশিদিন বাঁচে না। তাদের আয়ু কম। কিন্তু যেটুকু সময় বেঁচে থাকে কখনই মুখ গোমড়া করে রাখে না, দাঁত খেঁচায় না। সবাইকে খুশি করা। সর্বক্ষণ মনের আনন্দে বা দুঃখে অ্যাকোয়ারিয়ামের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত চষে বেড়ায়। মাঝেসাঝে একটু ছটফট করে। বোধহয় বলে, ভগবান পরের জন্মে সমুদ্র, নদী যদি না হয়, অন্তত পুকুরে যেন ঘর বাঁধার সুযোগ দিও। এটুকু স্বপ্ন তো ওরা দেখতেই পারে! ওরা রোববার বাড়িতে এল। সবার ছুটি। নতুন অতিথিদের নিয়ে বাড়িতে সাজো সাজো রব পড়ে গেল। সকাল থেকে অ্যাকোয়ারিয়াম ধোয়া, জল পাল্টানো ইত্যাদি কাজ শুরু হল। মূল উদ্যোক্তা বাবা। তিনি প্রায় একাহাতে সব কাজ করলেন। গোল্ডফিশ ১০টা, মলি ৬টা, এইঞ্জল ২টো। প্যাকেট থেকে বের করে অ্যাকোয়ারিয়ামে ছাড়তেই ওরা মনের অানন্দে ঘুরে বেড়াতে লাগল। প্লাস্টিকের প্যাকেটের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ওরা খুব খুশি। গোল্ডি নামও যেমন, দেখতেও তেমনি। গায়ের রঙ সোনালি। মলি কুচকুচে কালো। আবার এইঞ্জল ধপধপে সাদা। এবাড়ির অতিথি হয়ে আসার আগে ওদের কারুর সঙ্গে কারুর আলাপ ছিল না। তাই প্রথমেই ওরা বন্ধুত্বটা সেরে ফেলল। কারুর গায়ের রঙ কালো, কারুর ফরসা, থুড়ি সাদা আবার কারুর সোনালি। কেউ সংখ্যায় বেশি। কেই কম। সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু। ওদের মধ্যে পার্থক্য অনেক। তবে ওরা ঠিক করল, ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি নীতিটা মেনে চলবে। মানুষের মতো সামান্য বিষয় নিয়ে ওরা ঝগড়া করবে না। মিলেমিশে থাকবে। একসঙ্গে থাকতে গিয়ে যদি ঠোকাঠুকি লাগে, কথা বলে সেসব মিটিয়ে নেবে। যতই শুধু মাছ বলে ছোট করা হোক না কেন, ওরা কিন্তু একেবারে বুদ্ধিহীন নয়! এবাড়িতে দ্বিতীয় দিন। সারাদিন ভালোভাবেই কাটল। নতুন অতিথিদের খাতির যত্নে কোন অভাব রাখা হয়নি। বাড়ির নতুন মেম্বারদের নিয়ে সবাই দৃশ্যত খুশি। তার মধ্যেই সোমবার রাতে এল সেই চমকপ্রদ খুশির মুহূর্ত। রাত বোধহয় তখন সাড়ে ১১টা। শুতে যাওয়ার আগে বাবা অ্যাকোয়ারিয়ামে লাইট জ্বালিয়ে দেখছিলেন সব ঠিকঠাক আছে কিনা। তখনই ব্যাপারটা ওনার নজরে এল। চশমা চোখে ছিল না। তাই উনি আবছা আবছাভাবে দেখতে পেলেন অ্যাকোয়ারিয়ামে ব্যাঙাচির মতো কিছু প্রাণী কিলবিল করছে। কিন্তু উনি বুঝতে পারছেন না এরা এল কি করে। চশমা পরে অবশ্য তিনি আসল ব্যাপারটা বুঝতে পারলেন। ওগুলো ব্যাঙাচি নয়। মলির সদ্যোজাত সন্তান। ১৪টা। বাড়ির সবাই খবরটা ততক্ষণে জেনে গিয়েছে। জাল দিয়ে ছেঁকে মলির বেবিদের অ্যাকোয়ারিয়াম থেকে তুলে একটা বড়ো বাটিতে জল দিয়ে রাখা হল। কারণ অন্য মাছেদের সম্ভাব্য আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করা। মলি প্রথমে খুব মনমরা হয়ে গিয়েছিল ওর বাচ্চাদের ওর কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে। পরে অবশ্য বুঝেছে কেন আমরা এটা করলাম। মলির বাচ্চারা এখন স্টিলের ডেচকিতে খুব খুশি। ওরা অবাক হয়ে মাঝে আমাদের দেখে। মানুষকে দেখে। অবাক চোখে। কিছুদিন পর বড় হলে ওদের অ্যাকোয়ারিয়ামে ছেড়ে দেওয়া হবে। ওরা গোল্ডি, এইঞ্জলের সাথে খেলবে। কেউ কারুর সাথে ঝগড়া-মারামারি করবে না। মলির মা নিশ্চই ওদের এটা শেখাবে। আমরা অবশ্য ওদের দৃশ্য সুখেই খুশি। বাকিটা ব্যক্তিগত।




Author

Biswajit Manna
Last Online: Thursday 20/09/18 | Published on: Thursday 13/09/18

Biswajit Manna is the author of this content.

Share this page and spread the word!

Liked the Article? Review it here:

1       2       3       4       5      

Reader Reviews and Feedback:

No Reviews Yet...





Size:      || Mode:               || PlayStyle:            || Play: