If you are an avid Reader, Click Here to Sign in. Create bookmarks, post comments, engage in discussion with authors and other readers, increase your knowledge, proficiency in language, earn points and compare and share with others.

ব্যাপ্তি বিশাল নয়। তবুও তার ভালোবাসায় কোন কৃপণতা নেই। প্রাণের পুকুর। ভালোবাসার পুকুর। ভালো লাগার পুকুর। মন খারাপের পুকুর। পাড়ায় পরিচিত ছিল। চৈত্র পড়তে না পড়তেই আশেপাশের অন্যান্য পুকুরে জল শুকিয়ে যেত। ব্যতিক্রমী শুধু কমলার পুকুর। তার পুকুরের জল কখনই পুরোপুরি শুকোতো না। পাড়াপ্রতিবেশীরা আসত স্নান করতে, কাপড় কাচতে, মাঠে বেঁধে রাখা গোরুর তৃষ্ণা নিবারনের জন্য বালতি ভরে জলও নিয়ে যেত অনেকে। সূর্য মধ্য গগনে যাওয়ার আগেই সেই পুকুরে যাওয়ার জন্য সবার লাইন পড়ে যেত। অনেকে পুকুরে গলা জলে নেমে দাঁড়িয়ে থাকত। শরীর ঠান্ডা করার জন্য। জল কম থাকায় কমলার কড়া আদেশ ছিল, পুকুরে বেশি দাপাদাপি করা যাবে না। তাতে জল ঘোলাটে হয়ে যেতে পারে। এই জল পুকুরের মাছেদের জন্য অস্বাস্থ্যকর। তাই চুপটি মেরে সবাই পুকুরে নেমে স্নান করে উঠে যেত। সবাই যাতে এই ফরমান মেনে চলে তা দেখার দায়িত্ব কমলা নিজের নাতি বুবলুর উপর দিয়েছিল। -খেয়াল রাখিস। কেউ যেন সাঁতার না কাটে। একেই জল কম। বেশি দাপাদাপি করলে পাঁক মেশানো জল খেয়ে মাছগুলো মরে যাবে। -ঠিক আছে ঠাম্মা। আধো আধো স্বরে ঘাড় নেড়ে জবাব দিত বুবলু। পাড়ায় তারও সুনাম আছে। রোগা প্যাটকা ছেলেটার গায়ের রঙটা যাকে বলে দুধে আলতা। গণ্ডগ্রামে আর পাঁচটা ছেলের মতো নয়। যতই বন্দেমাতরম বলে গগনভেদী আওয়াজ তুলে ১৫ আগস্টে আমরা ইংরেজদের গুষ্টি তুষ্টি করি না কেন, ওই সাদা চামড়ার প্রতি দুর্বলতা যে এখনও যায়নি। তাই। বুবলু অবশ্যি ওসব বোঝে না। বোঝার বয়সও হয়নি। সবে ক্লাস ৫। কিন্তু এই বয়সেই পড়াশুনায় তার দারুণ মাথা। ক্লাসে ফার্স্ট হয়। তাই পাড়ার সবার কাছ থেকেই ওই ছোট্ট বয়সেই সমীহ আদায় করে নিয়েছিল। ঠাকুরমার কথা সবাই মেনে চলছে কিনা তা দেখার জন্য ঠায় পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকত। কখনও আবার ক্লান্ত হয়ে পুকুর পাড়ে নারকেল গাছের তলায় বসে পড়ত। ভরা যৌবন বর্ষা নামতেই শুকনো পুকুর জলে টইটম্বুর হয়ে উঠত। অষ্টাদশী তরুণীর মতো। মাছেরাও প্রাণ ফিরে পেত। ইচ্ছেমত সাঁতার কেটে বেড়াত। মা তেলাপিয়া এই সময় মাতৃত্বের স্বাদ পেত। ঝাঁকে ঝাঁকে ছানাপোনার দল নিয়ে সারা পুকুর দাপিয়ে বেড়াত। তখন পুকুরে স্নানের ক্ষেত্রে অবশ্য আর কোনো বাধা নেই। পাড়ে থাকা নারকেল, খেজুর, কলা, কুল এবং আরও নাম না জানা অনেক গাছের সারি যেন পুকুরের শোভা আরও বাড়িয়ে তুলত। বাড়িতে যখন কোন শাক-সবজি থাকত না, কমলা জাল নিয়ে পুকুরে নেমে মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই মৌরলা, চিংড়ির মতো কিছু কুচো মাছ তুলে এনে ভাজা করে বুবলুকে ভাত দিয়ে ভাতের সঙ্গে খেতে দিত। কমলা নিজে মাছ বিশেষ একটা পছন্দ করত না। পুকুরে মাছের চারা ছেড়েছে শুধু বুবলুর কথা ভেবেই। এই কুঁড়েঘর, পুকুর আর বুবলু ছাড়া তার জীবনে তো কেউ নেই। ছেলে, বৌমা, মেয়ে, তাদের ঘরে নাতি-নাতনী, সবাই আছে। কিন্তু কেউ তো তার কাছে থাকে না। সবাই শহরে থাকে। তার একমাত্র সম্বল ছেলের ঘরের নাতী বুবলু। কমলার স্বামী বছর খানেক হল মারা গেছে। তারপর থেকে বড্ড একা হয়ে পড়েছিল সে। মাঝে মাঝে ভাবত এই একাকীত্ব থেকে মুক্তি পেতে পুকুরের জলে ডুবে মরবে। পাড়ে গিয়ে বসেও ছিল। কিন্তু পারেনি। বুবলু তো আছে আমার সঙ্গে। আমার কথা বলার সঙ্গী। আর এই ভালোবাসার পুকুর। সেও তো আমার সঙ্গী। অতএব ওই মরা ফরার প্ল্যান ক্যানসেল! 

--------১৫ বছর পর------ 

বুবলু এখন বড় হয়ে গেছে। ভালো চাকরি করে। শহরে থাকে। ফুসফুসের ক্যানসার বছর দুয়েক আগে কমলার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। মৃত্যুর সময় কমলা শেষবারের জন্যও বুবলুকে দেখতে পায়নি। সম্ভবও ছিল না। বুবলু অনেক দূরে থাকত। কমলার সাধের পুকুর এখন ভালো নেই। তার খবর কেউ রাখে না। বুবলুও তাকে ভুলে গেছে। সে স্বার্থপর হয়ে গেছে। এখন সে শাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়ে স্নান করে। নতুন ফ্ল্যাটে বাথটাব লাগানোর বরাত দিয়েছে প্রোমোটারকে। কমলার পুকুরকে তার আর মনে পড়ে না।




Author

Biswajit Manna
Last Online: Monday 06/08/18 | Published on: Wednesday 01/08/18

Biswajit Manna is the author of this content.

Share this page and spread the word!

Liked the Article? Review it here:

1       2       3       4       5      

Reader Reviews and Feedback:

No Reviews Yet...





Size:      || Mode:               || PlayStyle:            || Play: